মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাহাড়ে তাঁর আসা শুধুমাত্র সৌন্দর্য উপভোগের জন্য নয়, বরং উন্নয়নমূলক কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে পাহাড়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত জনমুখী প্রকল্পের সুফল পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ের সমস্ত এলাকার মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আগামী ১ জুলাই থেকে পাহাড়ের মানুষ ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ পাবেন। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। খুব শীঘ্রই পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হবে এবং পাহাড়ের যুবক-যুবতীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জনজাতি সম্প্রদায়ের জন্য রেশন ব্যবস্থায় বিশেষ ভর্তুকি এবং বিদ্যুৎ পরিষেবায় ছাড় দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষপর্বে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পাহাড়ে ঘুরতে আসব না, কাজ করতে আসব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতেই বারবার পাহাড়ে আসব।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, দার্জিলিং, কার্শিয়াং এবং কালিম্পং—এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রই বর্তমানে বিজেপির দখলে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রও বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।





