প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে ‘ন্যায্য’ বলে মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রতিবাদ করলেই কেউ রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে যায় না। আজকের তরুণ প্রজন্ম আমাদেরই ভবিষ্যৎ, আর তারা আমাদের প্রজন্মের চেয়েও বেশি সৎ।”
বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে তরুণদের উদ্বেগ ও প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, তারা যে প্রশ্ন তুলছে, তার যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া রাষ্ট্র ও সমাজ— উভয়েরই দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের সময় শাসকদলের কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি অর্থের অভিযোগও তুলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই ভাগবত বলেন, “তরুণরা প্রতিবাদ করছে বলেই তারা দেশদ্রোহী নয়। তারা আমাদেরই সন্তান, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি বিশ্বাস করি, আজকের প্রজন্ম আমাদের চেয়ে বেশি সৎ এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশসেবার আন্তরিক মানসিকতা রয়েছে।”
তবে তিনি প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়েও মত প্রকাশ করেন। ভাগবতের কথায়, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তারও একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সময় আমরা বড়দের কথা বেশি শুনতাম। কিন্তু আজকের প্রজন্ম প্রশ্ন করে, যুক্তি চায়। এটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত নয়।”
দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ভাগবত বলেন, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মন্তব্য করেন, “যদি চোখ বন্ধ করে কাউকে বিশ্বাস করতে বলা হয়, আমি জেন জি-র তরুণদের উপরই বেশি ভরসা রাখব।”
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, শিক্ষা শুধুমাত্র চাকরির জন্য হওয়া উচিত নয়। কর্মসংস্থানের অর্থ শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তা তৈরিও। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নকে শুধু সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করেন না তিনি। তাঁর মতে, সমাজকেও এই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।
সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সমপ্রেমী ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন ভাগবত। তিনি বলেন, “তাঁরা ভারতীয় সমাজেরই অংশ। তাঁদের সমাজচ্যুত বা একঘরে করে রাখা উচিত নয়। বরং সম্মানের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা থাকা দরকার।”





