আস্থা ফিরলেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেশান্তি আলোচনায় বসবে ইরান:পেজেশকিয়ান

পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান। তবে এজন্য ওয়াশিংটনকে আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে অবিশ্বাসের পরিবেশ দূর করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেজেশকিয়ান বলেন, আগের সমঝোতা স্মারককে ভিত্তি করেই ইরান শান্তির পথে এগোতে চায়। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সমঝোতা স্মারককে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের তৈরি করা অবিশ্বাসের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে।’’ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দেশে বর্তমানে ঐক্য, সংহতি ও শক্তির পরিবেশ রয়েছে। তাই এখনই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কার্যকর আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। তবে আলোচনায় পারস্পরিকতার নীতি বজায় রাখতে হবে। ওয়াশিংটন যতটা প্রতিশ্রুতি পালন করবে, তেহরানও সেই অনুপাতে নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করবে।পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো পক্ষ যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে চাপ দিতে চায়, তা মেনে নেবে না তেহরান। তাঁর মতে, আলোচনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছানো, কোনো পক্ষকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির হাতে থাকবে বলেও জানান তিনি।এর আগে শুক্রবারও পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, দেশের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করেই ইরান সংলাপের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে আলোচনার নামে তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। তিনি আরও জানান, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন।ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরান আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। তবে সেই আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিতে হবে। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, সমান মর্যাদা, পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি এবং সামরিক চাপমুক্ত পরিবেশেই কেবল শান্তি আলোচনার পথে এগোনো সম্ভব।

Exit mobile version