শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলম্বিয়া। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৪ বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। ভয়াবহ এই কম্পনে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কলম্বিয়ার চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার শহরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। তবে কলম্বিয়ার নিজস্ব ভূতাত্ত্বিক সংস্থা কম্পনের মাত্রা ৬.৭ এবং গভীরতা ৮২ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে। পেরেইরা শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, সেখানে মৃতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন শহরটির বাসিন্দা। পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সঙ্কটজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালির মেয়র জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ২০টি বড় ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্টাগো এবং বুয়েনাভেনচুয়ারা বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও বিভিন্ন পরিকাঠামোতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি জানিয়েছেন, কিবদোসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বেশ কিছু বাড়িতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি।ভূমিকম্পের পর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।কম্পনের তীব্রতা শুধু কলম্বিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজধানী বোগোটা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা সীমান্ত এলাকা, পানামা এবং ইকুয়েডরেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।কলম্বিয়া এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে দেশটির অবস্থান হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। বিশেষ করে আন্দিজ অঞ্চল, ইস্টার্ন কর্ডিলেরার পাদদেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য আফটারশক নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভবন ও অন্যান্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কালীঘাট তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত তিন বিধায়কের, মমতার নেতৃত্বেই আস্থা
পালাবদলের পর তৃণমূলে তৈরি হওয়া ভাঙনের আবহে এবার উল্টো স্রোতের ইঙ্গিত মিলল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা তিন বিধায়ক—বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের...



