২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান, ‘আর একবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে গ্রহণ করা হবে’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ-বাগের খারাযি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট এ পর্যন্ত ২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নাকি সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি আর একবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে খারাযি বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বারবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সর্বশেষ এক কঠোর বার্তার পর তিনি আর সেই অবস্থান নেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। খারাযির দাবি, সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, “তিনি যদি আর একবার পদত্যাগের প্রস্তাব দেন, আমি তা অনুমোদন করব। নিচে ‘অনুমোদিত’ লিখে দেব, সেখানেই সব শেষ হবে।”
তবে এই বক্তব্যের পরই প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায়। প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত একটি মহল এখনও রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দেশের শত্রুদের স্বার্থে কাজ করছে।
প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আলী-আসগর শাফিয়ানও খারাযির বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, খারাযির সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার কোনো বৈঠক বা সরাসরি যোগাযোগই হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে বিরোধী গোষ্ঠীর একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখা হচ্ছে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
খারাযি তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় নির্দিষ্ট অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবিরও কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারককে ঘিরেই ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, এই সমঝোতা সর্বোচ্চ নেতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন এবং সর্বোচ্চ নেতার সম্মতির ভিত্তিতেই সরকার ওই সমঝোতার পথে এগিয়েছে।

Exit mobile version