বিধানসভা ভোটের আগে বড় ধাক্কা, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ‘গুরুবিরোধী’ ঘোষণা অকাল তখ্‌তের

পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের মুখে পড়লেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিংহ মান। শিখ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অকাল তখ্‌ত তাঁকে ‘গুরুবিরোধী’ বলে ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, শিখ ধর্মাবলম্বীদের তাঁর সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক না রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বা আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে শিখ গুরুদের ছবির সামনে মদ ঢালার দৃশ্য দেখা গিয়েছে এবং সেখানে ভগবন্ত মান উপস্থিত ছিলেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করে আসছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।
তবে অকাল তখ্‌তের দাবি, সরকারি স্বীকৃত ফরেনসিক পরীক্ষাগারে ভিডিওটির পরীক্ষা করানো হয় এবং রিপোর্টে ভিডিওটি এআই-নির্মিত বা জাল নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ফরেনসিক পরীক্ষায় ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি যে নিশ্চিতভাবে ভগবন্ত মান, তা প্রমাণিত হয়নি বলেও আপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

অকাল তখ্‌তের জথেদার কুলদীপ সিংহ গরগজ জানান, ভিডিওটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তিনি ভিডিওটিকে এআই-নির্মিত বলে দাবি করলেও সেই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ জমা দেননি। প্রায় ছয় মাস অপেক্ষার পর দুটি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অকাল তখ্‌ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি এই বিতর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য অকাল তখ্‌তের সামনে হাজির হয়েছিলেন ভগবন্ত মান। সেখানে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিওটিকে ভুয়ো বলে দাবি করেছিলেন।
ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে অকাল তখ্‌তের প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Exit mobile version