উত্তেজনা, কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি আর স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিল ফ্রান্স। শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ফ্রান্সের কাছে। তবে পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগ গড়ে প্যারাগুয়ে ফরাসিদের আক্রমণ বারবার ঠেকিয়ে দেয়। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে দুই দলই লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি।
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। ৫২ মিনিটে এমবাপ্পে গোলের সুযোগ পেলেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকলে দলকে রক্ষা করেন হুয়ান কাসেরেস। এরপরও একাধিকবার গোলের খুব কাছে পৌঁছায় ফরাসিরা, কিন্তু প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল দৃঢ়তায় সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
ম্যাচের ৬৫ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা বজায় থাকলেও এরপর বদলি খেলোয়াড় দেজিরে দুয়েকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেন দিয়েগো গোমেজ। প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি দেন রেফারি।
৭০ মিনিটে স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে এটি তাঁর সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল। একই সঙ্গে টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়লেন তিনি।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণে তেমন চাপ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো যোগ করা সময়ে এমবাপ্পে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও দুর্দান্ত দুটি সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হার থেকে বাঁচান গোলরক্ষক গিল।
ম্যাচজুড়ে একাধিকবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কঠিন ট্যাকল ও পাল্টা ট্যাকলের কারণে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। তবে সব বাধা পেরিয়ে এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফরাসিরা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো।
