দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে অবশেষে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের দাবি, এই বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে একটি বৃহত্তর সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
সূত্রের খবর, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ইউরোপ সফরে থাকবেন ট্রাম্প-সহ মার্কিন প্রতিনিধিরা। সেই সময়ই জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিকল্প হিসেবে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার নামও আলোচনায় রয়েছে।
একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, এই সমঝোতার নাম হতে পারে ‘ইসলামাবাদ ঘোষণা’। মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই নাম বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফার আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর বিষয়ও খসড়া চুক্তিতে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন। তবে এখনও পর্যন্ত তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেনি।
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও চুক্তির চূড়ান্ত ভাষা এখনও নির্ধারিত হয়নি। আগামী শনিবারের মধ্যেই খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ফলে বিশ্ববাসীর নজর এখন জেনেভার দিকেই, যেখানে সফল সমঝোতা হলে পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অবসানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
