যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইজরায়েলের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও আন্তর্জাতিক সমঝোতার কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে আপস করতে তারা বাধ্য নয়। তার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে দুই মিত্র দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইজরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলে ইজরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত। কারণ, অন্য কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিলেন না, আমি তা করেছি।”
একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লেবানন প্রসঙ্গে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “বিবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু লেবাননের বিষয়ে তাঁকে আরও সতর্ক হতে হবে। এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে চলা শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।”
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে তিনি সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার মাত্র কিছুক্ষণ আগে বেইরুটে ইজরায়েলের হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। চুক্তি সইয়ের ঠিক আগে এমন হামলা আমি কল্পনাও করিনি।”
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ওই হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুকে নিজের অসন্তোষের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য দেশের নিরাপত্তাকে বিসর্জন দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ, কিন্তু ইজরায়েল কোনও অধীনস্থ রাষ্ট্র নয়। আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।”
তিনি আরও বলেন, হেজবোল্লা ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির হুমকির মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইজরায়েলের রয়েছে। অতীতে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে দেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।




