দুই শতাব্দীর অপেক্ষা। এক-দু’টি বছর নয়, টানা পাঁচ প্রজন্ম ধরে যে ঘরে কন্যাসন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষা ছিল, অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। মহারাষ্ট্রের বিড জেলার পারলির দহিফলে পরিবারে জন্ম নিল এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। আর সেই আনন্দ যেন বাঁধ মানল না পরিবারের। হাসপাতাল থেকে মা ও মেয়েকে ফুলে সাজানো রথে চাপিয়ে, ব্যান্ডপার্টি, ঢাক-ঢোল ও কাঁসর বাজিয়ে রাজকীয় আয়োজনে বাড়িতে নিয়ে এল পরিবার।
পরিবারের নতুন সদস্যের নাম রাখা হয়েছে ‘গার্গী’। দীর্ঘ ২০০ বছর পর পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়ায় গার্গীকে ঘিরে দহিফলে পরিবারে এখন উৎসবের আবহ। হাসপাতাল থেকে মা কল্পনা হৃষিকেশ দহিফলে ও সদ্যোজাত গার্গীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ শোভাযাত্রার। ফুলে সাজানো রথে মা-মেয়েকে বসিয়ে পথজুড়ে বাজানো হয় ঢাক-ঢোল ও ব্যান্ড। তাঁদের দেখতে রাস্তার পাশে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারাও।
সাধারণত একটি শিশুর জন্মের পর তাকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু গার্গীর ক্ষেত্রে সেই মুহূর্ত হয়ে উঠল স্মরণীয়। পাঁচ প্রজন্মের দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরে আসা এই কন্যাশিশুকে পরিবারের সদস্যরা যেন আগেভাগেই রাজকুমারীর মর্যাদা দিয়ে বরণ করে নিলেন।
নাতনিকে প্রথম দেখার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গার্গীর দাদু লিম্বাজী দহিফলে। তাঁর কাছে এই জন্ম শুধু একটি শিশুর পৃথিবীতে আসা নয়, বরং বহু বছরের একটি অপূর্ণতার পূর্ণতা। তিনি বলেন, পরিবারে কন্যাসন্তানের আগমন তাঁদের কাছে পরম সৌভাগ্যের। এতদিন ঘরে কোনও মেয়ে না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, গার্গীর জন্ম সেই শূন্যতা পূরণ করেছে।
একই আবেগ ঠাকুমা সুরেশা দহিফলের কণ্ঠেও। নাতনিকে ঘিরে আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরে আজ সাক্ষাৎ লক্ষ্মী এসেছে।’ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিবারের কোলে আসা এই কন্যাশিশুকে পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত বলেও জানান তিনি।
গার্গীর বাবা জানান, সমাজে এখনও অনেক পরিবার ছেলেসন্তানের প্রত্যাশা করে। কিন্তু কন্যাসন্তানের জন্মের আনন্দ ও অনুভূতি একেবারেই আলাদা। তাঁর কথায়, মেয়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর হয়। তাই গার্গীকে ফুলের মতো করে ভালোবাসা, যত্ন ও আদরে বড় করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
দহিফলে পরিবারের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শুধু নিজেদের আনন্দ উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কন্যাসন্তানের জন্মকে ঘিরে সমাজের প্রচলিত কিছু মানসিকতার বিরুদ্ধেও যেন নীরব বার্তা দিয়েছে পরিবারটি।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, মেয়ে কোনও বোঝা নয়—একটি পরিবারের আনন্দ, ভালোবাসা ও গর্বের কারণ। সেই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁরা গার্গীর জন্মকে এতটা জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপন করেছেন।
দুই শতাব্দীর অপেক্ষার পর জন্ম নেওয়া ছোট্ট গার্গী হয়তো এখনও জানে না, তাকে ঘিরে কত মানুষের চোখে আনন্দের জল এসেছে। তবে তার আগমনের দিনটি যে দহিফলে পরিবারের ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন হয়ে রইল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
