বিবাহিত হলেও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছামতো অন্য কারও সঙ্গে বসবাস করতে পারেন— এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। এক হেবিয়াস কর্পাস মামলার শুনানিতে এই রায় দিয়েছে আদালত।
মামলাটি করেন এক স্বামী, যিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর স্ত্রীকে এক যুবক ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে। সেই সূত্রেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্ত্রীকে হাজির করার আবেদন জানান তিনি।
তবে আদালতে হাজির হয়ে ১৯ বছরের ওই তরুণী সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, স্বামী তাঁর চেয়ে অনেক বেশি বয়সে বড় এবং তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, নিজের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
গোয়ালিয়র বেঞ্চের বিচারপতি আনন্দ পাঠক এবং পুষ্পেন্দ্র যাদব-এর সামনে ওই তরুণী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যাঁর বিরুদ্ধে তাঁকে আটকে রাখার অভিযোগ, তাঁর সঙ্গেই থাকতে চান তিনি।
তরুণীর আইনজীবী আদালতে জানান, তিনি স্বামীর সঙ্গে কোনও আপস চান না এবং বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে ওই যুবকের সঙ্গেই থাকতে আগ্রহী। আদালত অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গেও কথা বলে। তিনি জানান, তরুণীর স্বাধীনতায় তিনি হস্তক্ষেপ করতে চান না এবং ভবিষ্যতে তাঁর দেখভালের দায়িত্ব নিতেও প্রস্তুত।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানায়, যেহেতু তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাই হেবিয়াস কর্পাস মামলার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি যাঁর সঙ্গে থাকতে চান, তাঁর সঙ্গেই থাকতে পারেন।
তবে আদালত নির্দেশ দেয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ওই তরুণীকে ছয় মাসের জন্য রাজ্য সরকারের ‘শৌর্য দিদি’ প্রকল্পের আওতায় থাকতে হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা নারীদের সুরক্ষা, পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা।
