ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা চলছে, তখন শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (শরদ)-র অবস্থান স্পষ্ট করলেন দলের সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব যদি বিলে লিখিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবেই তাঁদের দল বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচকভাবে আলোচনা করবে।
এক সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিয়া সুলে বলেন, “প্রথমে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির শর্তটি লিখিতভাবে দিন, তারপর আমরা বিল নিয়ে আলোচনা করব।” তিনি জানান, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সুলের দাবি, সরকার প্রতিটি রাজ্যের জন্য ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে বিলের চূড়ান্ত খসড়া হাতে না পাওয়া পর্যন্ত দল কোনও অবস্থান ঘোষণা করবে না। তাঁর কথায়, “বিল না দেখে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। খসড়া হাতে এলে আমরা তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানাব।”
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রতি অবিচার হতে পারে। তাই সব রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করেই আসন পুনর্বিন্যাস হওয়া উচিত।
এদিকে এনসিপি (শরদ) এনডিএ-তে যোগ দিতে পারে— এমন জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন সুপ্রিয়া সুলে। তিনি বলেন, “আমাদের নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমরা কোথাও যাচ্ছি না। আমরা ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গেই আছি।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা পি. চিদম্বরম অভিযোগ করেছেন, ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে বিজেপি এনসিপি (শরদ) ও ডিএমকের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি দুই দলকেই বিলটির বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, আগের অধিবেশনে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। আগামী সংসদ অধিবেশনে সরকার ফের বিলটি আনতে পারে বলে জোর জল্পনা রয়েছে। তবে সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পরেই তা পেশ করা হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
