দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। ‘নো ম্যাপিং’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র মতো কারণ দেখিয়ে দিল্লিতে প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রেই ‘যান্ত্রিক’ বলে মনে হচ্ছে। বিচারপতি বাগচী নির্বাচন কমিশনকে দেখতে বলেছেন, নোটিস পাঠানোর আগে আরও কিছু ‘ফিল্টার’ বা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন কি না।
শুনানিতে বেঞ্চ বিশেষভাবে জানতে চায়, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে এবং কোন মাপকাঠিতে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আদালতের প্রশ্ন ছিল, কোনও ভোটারকে নোটিস দেওয়া হলে তাঁকে ঠিক কোন তথ্য বা অসঙ্গতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হবে, সেটি নোটিসে স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে কি না।
আবেদনকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের অভিযোগ, অনেক নোটিসে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ উল্লেখ করা হলেও ঠিক কোন তথ্যের অমিল রয়েছে, তা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে কী নথি নিয়ে হাজির হতে হবে বা কোন নথির মাধ্যমে অসঙ্গতি দূর করা যাবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
এসআইআর-এর এই প্রক্রিয়ায় বর্তমান ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে আগের তালিকার তথ্য মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোটারের নিজের নামের অমিল, বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান এবং ভাই-বোনের জন্মতারিখের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধানের মতো বিষয়ও রয়েছে। প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে তথ্যের ‘ম্যাপিং’ করা যায়নি বলেও আগে জানানো হয়েছিল।
কমিশনের পক্ষে জানানো হয়েছে, নোটিসে কারণ উল্লেখ করা থাকে এবং সেখানে দেওয়া নথির তালিকা সম্পূর্ণ নয়। কমিশনের বক্তব্য, দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী ভোটার থাকায় তাঁদের আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন হতে পারে, যাতে একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় ভোটার হিসেবে নাম থাকার মতো সমস্যা চিহ্নিত করা যায়।
শুনানিতে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লির এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৪ হাজার বিএলও এবং ১,২০০ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার যুক্ত রয়েছেন। আদালত ভোটারদের সহায়তায় বিএলওদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেছে।
এর আগে দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় ৪৭ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার পরেই প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানোর ঘটনায় এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে শীর্ষ আদালতের ব্যাখ্যা তলবকে মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
