বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু। আর সেই শুরুতে ফের একবার ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কানসাস সিটিতে তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা। দেশের জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন, বয়স শুধু সংখ্যা— মাঠে তিনিই এখনও আলবিসেলেস্তেদের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। পঞ্চম মিনিটেই বল জালে জড়িয়েছিলেন মেসি। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। কয়েক মিনিট পর একই কারণে বাতিল হয় আলজেরিয়ার একটি গোলও। ফলে শুরুতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ম্যাচে।
প্রথম দিকে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ মেসিকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ সফল হয়নি। ১৭ মিনিটে অধিনায়কের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। সেই গোলের পর থেকেই ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধে কয়েকবার পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আলজেরিয়া। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মেসির দল।
দ্বিতীয়ার্ধে জুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেজ মাঠে নামার পর আরও ধারালো হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার আক্রমণ। ৬০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। তখন থেকেই কানসাস সিটির গ্যালারিতে ধ্বনিত হতে থাকে একটাই নাম— ‘মেসি, মেসি’।
অপেক্ষার অবসান ঘটে মাত্র ১০ মিনিট পর। ৭০ মিনিটে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনের সূচনা করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচটিতে মেসির পাশাপাশি নজর ছিল আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের দিকেও। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পুত্র লুকা এদিন তিনবার পরাস্ত হন মেসির অসাধারণ দক্ষতার কাছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি যেন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন— শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা প্রস্তুত, আর সেই স্বপ্নযাত্রার অগ্রভাগে রয়েছেন তাদের অবিসংবাদিত নেতা।
হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু মেসির, আলজেরিয়াকে হারিয়ে স্বপ্নের সূচনা আর্জেন্টিনার
