উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ড, ‘রোবোকপ’ রেফারিকে ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর ২-০ গোলের জয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এলেন ম্যাচ রেফারি ব্রাজিলের উইলটন সাম্পাইও। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তিনি তিনটি লাল কার্ড দেখান, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
ম্যাচ শুরুর আগেই সাম্পাইওর ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যোগাযোগ হেডসেট নজর কাড়ে দর্শকদের। এর অদ্ভুত নকশা দেখে অনেকেই সেটিকে এক্সবক্স গেমিং সরঞ্জাম কিংবা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘রোবোকপ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরা ও বার্না বয়ের পরিবেশনার পর খেলা শুরু হতেই সামাজিক মাধ্যমে মিমের বন্যা বয়ে যায়। অনেক সমর্থক মজা করে মন্তব্য করেন, ম্যাচের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারটিই যেন পাওয়া উচিত ছিল রেফারির।

৪৮ দলের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল করেন জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল জিমেনেজ। তবে মূল নাটক জমে ওঠে কার্ডের ছড়াছড়িতে। বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিথোলেকে লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও। পরে ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাডোকে মুখে আঘাত করার অপরাধে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে নয় জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
স্টপেজ টাইমে খুলিসো মুদাউকে ফাউল করার দায়ে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্টেসও লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সময় মেক্সিকো মাঠে ছিল ১০ জন নিয়ে।
৪৪ বছর বয়সী উইলটন সাম্পাইও লাতিন আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি। ১৯৮১ সালে ব্রাজিলের তেরেসিনা দে গোয়াসে জন্ম নেওয়া সাম্পাইও ২০০৯ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে রেফারিং শুরু করেন এবং ২০১৩ সালে ফিফার স্বীকৃতি পান। কোপা লিবার্তোদোরেস, কোপা আমেরিকা ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপসহ একাধিক বড় টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন সাম্পাইও। কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের কোয়ার্টার-ফাইনালে কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে কঠোর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ও বেশি কার্ড দেখানোর জন্য তার সুনাম-দুর্নাম দুটোই রয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও।
তবে তিনটি লাল কার্ড দেখানো সত্ত্বেও এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড নয়। সেই রেকর্ড এখনও ২০০৬ বিশ্বকাপের পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার কুখ্যাত ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’-এর দখলে। সেই ম্যাচে চারটি লাল কার্ড এবং ১৬টি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল।

Exit mobile version