সংবিধান এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষার প্রশ্নে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাল সিপিআই(এম)। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা নির্বাচনী জোটের সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করে দিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
শনিবার এনবিএ-তে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা মোকাবিলায় বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন। সেই কারণেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মমতার সঙ্গে বেবির ফোনে কথাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে মমতার সঙ্গে যোগাযোগকে রাজনৈতিক জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, “তার মানে তৃণমূলের সঙ্গে বা মমতার সঙ্গে কোনও জোট বা ভোট নয়।” সেলিমের দাবি, দেশের সংবিধান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার প্রশ্নে যে কোনও দলের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইস্যুতে একসঙ্গে আন্দোলন করা যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে সেলিম বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, এই লড়াই কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করার জন্য।
সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরে থাকা এমন দলগুলিকেও আলোচনায় যুক্ত করার পক্ষে তিনি, যারা গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে আন্দোলনে অংশ নিতে আগ্রহী। বেবির চিঠির পর মমতা যোগাযোগ করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে এক জায়গায় আনার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির একাংশের সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে SIR প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, SIR এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
