মুর্শিদাবাদে স্কুলগাড়ি ও ট্রেনের সংঘর্ষে গ্রেপ্তার গেটম্যান, গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড ২; ঘটনাস্থলে অধীর চৌধুরী

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে স্কুলগাড়ি ও ট্রেনের সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল রেল কর্তৃপক্ষ। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে রেলগেটের গেটম্যান এবং তাঁর সুপারভাইজারকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। পরে বহরমপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে রেল নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরী।
শুক্রবার সকালে কর্ণসুবর্ণের লেভেল ক্রসিংয়ে খোলা গেট দিয়ে একটি স্কুলগাড়ি ও সাইকেল আরোহী রেললাইন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় দুই স্কুলপড়ুয়াসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেটম্যানের চরম অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত গেটম্যান প্রায়ই গেট পরিচালনায় গাফিলতি করতেন এবং একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে তাঁকে রেল কেবিনে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গেটম্যান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতেন এবং প্রায়ই গেট পরিচালনায় ভুল করতেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর মতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সত্য কি না, তিনি স্থায়ী কর্মী নাকি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্ত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা উচিত।

পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Exit mobile version