জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তির দীর্ঘদিনের নিয়মে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র সরকার। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জন্ম বা মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ মঙ্গলবার রাজ্যসভায় পেশ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩১ জুলাই লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটার এক বছর পর কিন্তু দুই বছরের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করা হলে, তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর শুধুমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম), মহকুমা শাসক (এসডিএম) অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুমোদিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তা নথিভুক্ত করা যাবে।
অন্যদিকে, দুই বছরের বেশি দেরিতে জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করা হলে নিয়ম আরও কঠোর হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া কোনওভাবেই নিবন্ধন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পরই অনুমোদন মিলবে।
কেন্দ্রের দাবি, দেরিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অপব্যবহার রোধ, সরকারি নথির নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং সময়মতো নিবন্ধনের প্রবণতা বাড়াতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
এদিকে, বিলটি উত্থাপনের দিনই বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভে রাজ্যসভা দু’দফা মুলতবি হয়। অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগ এবং ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের বক্তব্য দাবি করে সরব হয় বিরোধী সদস্যরা। সেই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই উচ্চকক্ষে সংশোধনী বিলটি পেশ করা হয়।




