ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কংগ্রেস প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর জোটের অন্দরে মতভেদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ক্রস ভোটিংয়ের জেরে বিজেপি-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী জয়ী হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার এই ইস্যুতে জোটসঙ্গী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। দলের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য দাবি করেন, জোটের পক্ষে ভোট দেওয়া ৫০ জন বিধায়কের নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে, যারা বিজেপি-সমর্থিত নির্দল প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি নীতিন নবীনের হাতে বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের দাবি, ক্রস ভোটিংয়ে জড়িত বিধায়কদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তিনি প্রকাশ্যে কারও নাম জানাননি।
অন্যদিকে, জেএমএমের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে জোটসঙ্গী আরজেডি এবং সিপিআই(এমএল)। সিপিআই(এমএল)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সামাজিক মাধ্যমে জানান, দলের দুই বিধায়কই জোটের সিদ্ধান্ত মেনে কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিয়েছেন।
আরজেডির মন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদ যাদবও জেএমএমের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, তাঁদের দল কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি এবং কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থন করেছে। একইসঙ্গে আরজেডির সাধারণ সম্পাদক ভোলা যাদবের দাবি, অন্যদের দোষারোপ করার আগে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের বিধায়কদের ভোট নিয়ে আত্মসমালোচনা করা।
রাজ্যসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর ঝাড়খণ্ডে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রস ভোটিংয়ের ঘটনাকে ঘিরে জোটের শরিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।




