অনশনের ১৯তম দিনেও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরলেন না সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার অবনতি স্বীকার করলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন ওয়াংচুক। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে NEET-এ প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে তাঁর এই আন্দোলন।
অনশনের ১৯তম দিনে ওয়াংচুক বলেন, “আমার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তবে এখনও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি পিছু হটব না।” চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি।
আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রকাশিত সর্বশেষ চিকিৎসা বুলেটিন অনুযায়ী, ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক। তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৭৬ mmHg, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ mg/dL এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন আরও ৪০০ গ্রাম কমে ৫৭.১৫ কেজিতে নেমেছে। অনশন শুরুর পর থেকে মোট প্রায় ৮.৯ কেজি ওজন কমেছে তাঁর। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।
আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিন ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করার দাবি। আমাকে অনশন ভাঙতে বলার পরিবর্তে, শান্তিপূর্ণভাবে সংসদ অভিযানে অংশ নিন।”
ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং নাগরিক সমাজের একাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বিবেচনা করে অনশন প্রত্যাহারের আবেদনও জানিয়েছেন। এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যন্তর মন্তরে একদিনের গণ-অনশন কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও অর্থবহ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।





