আধুনিক নারী শিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এক তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ নিল আল আলাম মিশন। রবিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে আল আলাম মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত হল এক বিশেষ সচেতনতা সেমিনার।
রবিবার বিকেল তিনটায় বহরমপুরের মোস্তাক হোসেন ভবনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুর্শিদাবাদ সহ আশেপাশের জেলা থেকে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, সমাজকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল- “বর্তমান সমাজে আধুনিক নারী শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়”।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং জি.ডি মনিটরিং কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট আমলা জনাব শেখ নুরুল হক, আই.এ.এস। শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এদিন আল আলাম মিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘মোস্তাক হোসেন শিক্ষারত্ন’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। খাদ্যাভ্যাস, ব্রেন, ভিটামিন সম্পর্কেও তথ্য সহ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ খাজিম আহমেদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুজিবর রহমান, সমাজকর্মী আবু বক্কর সিদ্দিকী, শিক্ষিকা ও হক সাহেবের সহধর্মিণী মনিরা বেগম, মহম্মদ সেলিম, ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ, আবদুল বারী, ফরমান আলী, ফারুক হোসেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মাওলানা বদরুল আলম প্রমুখ।
বক্তারা প্রত্যেকেই তাঁদের বক্তব্যে বর্তমান সমাজে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ইসলাম ধর্মে নারী শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ আজও সমাজের একাংশে মেয়েদের শিক্ষাকে বোঝা মনে করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় আজও বহু মেয়েকে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ খাজিম আহমেদ বলেন, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় যেখানে শিক্ষার হার এখনও অনেকটাই পিছিয়ে, সেখানে আল আলাম মিশন ও মোস্তাক হোসেনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন আল আলাম মিশনের ডিরেক্টর মেহবুব মুর্শিদ। তিনি বলেন, “আমাদের এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য হল সমাজকে সচেতন করা। আমরা চাই মুর্শিদাবাদের কোনও মেয়ে যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”
এদিনের অনুষ্ঠানে মুর্শিদাবাদ জেলার ভূমিপুত্র, শিক্ষা বিস্তারে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই মোস্তাক হোসেন সাহেবের জীবন ও কর্ম নিয়েও আলোচনা করা হয়। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখেই আল আলাম মিশন আগামী দিনে শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যেতে চায় বলে জানান ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ ।

মেহবুব মুর্শিদ



ফারুক আহমেদ





