জ্ঞানেশ-বিতর্কে ফের বিরোধী ঐক্যের বার্তা মমতার, শ্রীরামপুর থেকে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহে ফের বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজনৈতিক দলের রং বা পরিচয় নয়, মানুষের স্বার্থে কে লড়ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

মমতার কথায়, “কোন পার্টি, কী কালার দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা থাকব তার সঙ্গে।” আগামী বুধবার দিল্লিতে বসতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে মমতার। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই শ্রীরামপুরের সভা থেকে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী।

তিনি বলেন, “সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। জোটবদ্ধ। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবেই লড়াই করব। কে লাল, কে নীল, কে হলুদ দেখার দরকার নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতেই হবে।”

মমতার বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট দলের নাম বা রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে ইস্যুর ভিত্তিতে অবস্থান নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমরা দেখব না ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ না কি ‘জেড’ দল আন্দোলন করছে। আমরা দেখব ইস্যুটা। সেটা যদি মানুষের পক্ষে হয়, কোন পার্টি, কী কালার আমার দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা থাকব তাদের সঙ্গে।” জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস এবং বামেদের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক নিয়ে নানা সময়ে টানাপড়েন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের সময়ও বাম ও অতিবাম দলগুলিকে একসঙ্গে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী।এ দিন সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মমতা। তাঁর কথায়, “আমি তো প্রথমেই বলেছিলাম, আসুন সবাই জোট বাঁধি। আসুন সবাই তৈরি হই। সে দিন অনেকেই অনেক কিছু বলেছিলেন।” সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির চিঠির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিষয়ে একসঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। মমতার দাবি, সেই প্রস্তাবে তিনি সম্মতিও জানিয়েছিলেন।২০২৩ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনতে গড়ে উঠেছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। পটনায় প্রথম বৈঠকের পর বেঙ্গালুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে জোটের শরিকদের মধ্যে দূরত্বও তৈরি হয়েছে।এর মধ্যেই জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক বিরোধী দলগুলিকে ফের সমন্বিতভাবে আন্দোলনের সুযোগ করে দিয়েছে। আগামী বুধবার দিল্লির বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতার বক্তব্যে সেই সম্ভাব্য ঐক্যেরই বার্তা উঠে এল।

Exit mobile version