ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে উত্তরপ্রদেশে অস্বস্তিতে বিজেপি ও যোগী সরকার। বিজেপির আগাম দাবি ছিল, বাংলায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ বেশি থাকায় সেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাবে। কিন্তু খসড়া তালিকার হিসাব বলছে, শতাংশের বিচারে বাংলার তুলনায় অনেক বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ছে যোগীরাজ্যেই।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে এখনও পর্যন্ত আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। অর্থাৎ এতজন ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নিশ্চিত। এর মধ্যে ২ কোটি ১৭ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত বলে দেখানো হয়েছে, ৪৬ লক্ষ মৃত এবং ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত ছিল। এত বিপুল সংখ্যক ‘স্থানান্তরিত’ ভোটার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তাঁরা গেলেন কোথায়, নাকি তাঁরা আদৌ প্রকৃত ভোটার ছিলেন?
বিজেপির উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আরেকটি তথ্য। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভোটার বাদ পড়ার হার বেশি সেই সব জেলাতেই, যেগুলি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। লখনউয়ে সম্ভাব্য বাদ পড়ার হার প্রায় ৩০ শতাংশ। গাজিয়াবাদ, কানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মেরঠ, প্রয়াগরাজ ও আগ্রাতেও একই চিত্র। বিপরীতে, যেখানে সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি—মোরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, মুজফফরনগর, বিজনৌরের মতো জেলায় বাদ পড়ার হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ১৫–১৮ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেন, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৬০ হাজার করে ভোট কমছে বিজেপির। যেগুলি বাদ পড়ছে, তার বড় অংশই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের ‘পকেট ভোট’।”





