দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের উপযোগী শৌচাগার নির্মাণও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুক্রবার এই ঐতিহাসিক রায় দেন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মাধবনের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকার ও মর্যাদার অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই মেয়েদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মৌলিক দায়িত্ব। সরকারি কিংবা বেসরকারি—কোনও স্কুলই এই নির্দেশ এড়াতে পারবে না।
রায়ে বলা হয়েছে, যদি কোনও স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন বা পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার দায় নিতে হবে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, শৌচাগারগুলিতে পর্যাপ্ত জল, সাবান, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম রাখতে হবে। মেয়েদের জন্য অতিরিক্ত ইউনিফর্ম রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তারা সমস্যায় না পড়ে।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী জয়া ঠাকুর। আবেদনে তিনি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য স্কুলে ‘ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি’ মেনে চলার দাবি জানান। সেই মামলার ভিত্তিতেই এই যুগান্তকারী নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, মেয়েদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যপরিকাঠামো না থাকলে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় সমতার অধিকার, ২১ নম্বর ধারায় জীবন ও মর্যাদার অধিকার এবং ২১এ ধারায় বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হয়। এই রায়ের মাধ্যমে স্কুলে মেয়েদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পথে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল বলেই মনে করছেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য




